বালগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রোসেন ঝেলিয়াজকভ বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন, সরকারবিরোধী কয়েক সপ্তাহের ব্যাপক গণবিক্ষোভের পর। ক্যাবিনেটের বিরুদ্ধে এ বছরের ছয় নম্বর অনাস্থা ভোটের ঠিক আগেই এই ঘোষণা আসে।
ঝেলিয়াজকভ বলেন, “আমরা নিশ্চিত যে আসন্ন অনাস্থা প্রস্তাবে সরকার সমর্থন পেত। তবে জাতীয় পরিষদের সিদ্ধান্ত তখনই অর্থবহ যখন সেটি জনগণের ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে।” পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের পদত্যাগ ভোটে গৃহীত হবে, যেখানে জোট এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ।
রাষ্ট্রপতি রুমেন রাদেভ সংসদীয় দলগুলোকে নতুন সরকার গঠনে আহ্বান জানাবেন। তবে তা ব্যর্থ হলে—যা সম্ভাবনাই বেশি—তিনি একটি কার্যনির্বাহী অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগ করবেন, যা নতুন নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে।
২০২০ সালে বোইকো বরিসভ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর থেকে দেশটি ইতোমধ্যে সাতটি আগাম নির্বাচন দেখেছে।
নভেম্বরে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় বিতর্কিত বাজেট প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে, যেখানে বেসরকারি খাতে কর বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয়ে আরও বরাদ্দের প্রস্তাব ছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট কেবলমাত্র ‘চূড়ান্ত স্ফুলিঙ্গ’; এর গভীরে ছিল সরকারের প্রতি বিস্তৃত অসন্তোষ। অর্থনৈতিক অভিযোগ দ্রুত রূপ নেয় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও নতুন নেতৃত্বের দাবিতে জাতীয় আন্দোলনে।
ঝেলিয়াজকভ আরও বলেন, “সমাজ আমাদের কাছে যে প্রত্যাশা রাখে, আমরা সেই উচ্চতায় ওঠার চেষ্টা করছি। প্রতিবাদকারীদের কণ্ঠ আমরা শুনেছি—তরুণ থেকে প্রবীণ, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এই নাগরিক শক্তিকে আমরা সম্মান করি ও উৎসাহিত করি।”
বালগেরিয়া আগামী ১ জানুয়ারি ইউরো গ্রহণ করতে যাচ্ছে, যদিও দেশের অর্ধেকের মতো মানুষ এখনো সন্দিহান। তারা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন, পাশাপাশি রাশিয়ার ভুয়া তথ্য প্রচার জনমত দুর্বল করছে বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com