ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার নাটকীয় পালাবদলের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি কাটাতে রোববার টেলিভিশন টক শোতে সতর্ক বার্তা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ওয়াশিংটন সরাসরি দেশ পরিচালনায় যাবে না—বরং বিদ্যমান তেল নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখাকেই নীতিগত চাপ তৈরির প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে।
যা জানা দরকার:
সতর্কভাবে পরিকল্পিত অভিযান:
“অ্যাবসলিউট রিজলভ” নামে পরিচিত এই অভিযানে দীর্ঘ প্রস্তুতি ছিল। প্রেসিডেন্সিয়াল কম্পাউন্ডের আদলে তৈরি একটি প্রতিরূপে মহড়া চালানো হয়। প্রয়োজনে নিরাপদ কক্ষের স্টিল দেয়াল কেটে বের করতে মার্কিন সেনাদের কাছে ছিল শক্তিশালী কাটিং সরঞ্জাম—যাকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “বিশাল ব্লোটর্চ” বলে উল্লেখ করেন। অভিযানের লক্ষ্য ছিল নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা।
ব্রুকলিনের কুখ্যাত কারাগারে মাদুরো:
মাদুরোকে রাখা হয়েছে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি বিতর্কিত কারাগারে—যে প্রতিষ্ঠানে বন্দি পাঠাতে একাধিক বিচারক অতীতে অনীহা দেখিয়েছেন। এই কারাগারেই আগে আটক ছিলেন আর. কেলি ও শন “ডিডি” কম্বসের মতো আলোচিত ব্যক্তিরা। মাদুরোর আটকের খবরে শনিবার রাতে কারাগারের বাইরে ভেনেজুয়েলান প্রবাসীদের ভিড় জমে; অনেকেই জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে উদযাপন করেন।
এরপর কী:
শনিবার ভেনেজুয়েলার সর্বোচ্চ আদালত ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেয়। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট অনুপস্থিত হলে এক মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন ডাকার কথা। তবে সরকারের জনপ্রিয় বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া এবং নজিরবিহীন মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে এই উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া আদৌ প্রযোজ্য কি না—তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক চলছে।
ওয়াশিংটনের অবস্থান বদলের ইঙ্গিত:
একদিন আগে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্র “চালাবে” বলে মন্তব্য করায় দীর্ঘমেয়াদি হস্তক্ষেপ ও ব্যর্থ নেশন-বিল্ডিংয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। রুবিওর বক্তব্য সেই উদ্বেগ প্রশমিত করার লক্ষ্যেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দৈনন্দিন শাসনে জড়াবে না; কেবল আগেই চালু থাকা তেল “কোয়ারেন্টাইন” বজায় রেখে নীতিগত পরিবর্তনে চাপ সৃষ্টি করবে।
সংক্ষেপে, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল আপাতত স্পষ্ট—কারাকাস নিয়ন্ত্রণ নয়, নিষেধাজ্ঞার লিভারেজই ওয়াশিংটনের প্রধান পথ।