কারাকাস/ওয়াশিংটন | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকারাস মাদুরো-কে আটক করার খবরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মাদকচক্র দমনের অংশ; তবে বিশ্বজুড়ে বহু দেশ একে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানটি “লক্ষ্যভিত্তিক ও সীমিত।” সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে এটি একটি “নির্ণায়ক পদক্ষেপ।” তবে মার্কিন কংগ্রেসের একাংশ আইনি ভিত্তি ও কূটনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি। নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি আলোচনা আহ্বানের দাবি উঠেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ পরিস্থিতি ঘিরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। তারা বলছে, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে “একতরফা আগ্রাসন” বলে নিন্দা জানিয়েছে। বেইজিং ও মস্কো উভয়েই অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
লাতিন আমেরিকায় প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে বিভক্ত।
ব্রাজিল ও মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলেছে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা-র বর্তমান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এটিকে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু কূটনীতিতেই নয়, জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক বিনিয়োগ পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা, নিষেধাজ্ঞা ও তেল রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো তরল। জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক জোটগুলোর মধ্যস্থতায় আলোচনার পথ খুলবে কি না, সেটিই এখন বৈশ্বিক নজরের কেন্দ্রবিন্দু।
For advertisement, write to : connect@ynewsgloba.com/ynewsglobal@gmail.com