রাশিয়ার ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (SVR) জানিয়েছে, তাদের কাছে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে ব্রাসেলসের ওপর চাপ দিচ্ছে, যাতে বেলজিয়ামভিত্তিক ডিপোজিটরি Euroclear-এ জব্দ থাকা রুশ রাষ্ট্রীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
SVR-এর প্রেস ব্যুরোর দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের অর্থায়ন ছাড়াও লন্ডনের আরও একটি কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ চায়, এই তহবিল যেন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না যায়। তাদের ধারণা, রুশ সম্পদ যদি ওয়াশিংটনের হাতে না পৌঁছায়, তাহলে হোয়াইট হাউস মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার বিষয়ে আগ্রহ হারাতে পারে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের কাছে যুক্তরাজ্যের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা এমন তথ্য উপস্থাপন করছেন, যা রাশিয়ার মতে বিভ্রান্তিকর। এসব তথ্যে দাবি করা হচ্ছে যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থে মস্কোর সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী এবং রাশিয়া ইউরোপে স্থগিত থাকা তাদের সার্বভৌম সম্পদ যৌথ প্রকল্পে ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
SVR-এর বক্তব্য অনুযায়ী, লন্ডন ইউরোপীয় কমিশনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যকরী চুক্তির (Treaty on the Functioning of the EU) কিছু আইনি ব্যতিক্রম ও ‘জরুরি পরিস্থিতি’র যুক্তি ব্যবহার করে রুশ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পথ খুঁজতে উৎসাহিত করছে। এ ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আপত্তি উপেক্ষা করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
রুশ গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ানোর আরেকটি কৌশল হিসেবে ইউরোপের চীনমুখী হওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় আনা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে লন্ডন, প্যারিস ও বার্লিন থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে বার্তা পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে SVR দাবি করেছে।
এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় কমিশন বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
For advertisement , write to : connect@ynewsglobal.com