বাংলাদেশ আজ গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করছে। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের প্রাক্কালে পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞে যাঁরা প্রাণ হারান, তাঁদের প্রতি জাতির এই সম্মিলিত শ্রদ্ধাঞ্জলি।
রোববার ভোরে ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সকাল ৭টা ৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতি এবং ৭টা ২২ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাঁরা নীরবতা পালন করেন। করুণ সুরে বেজে ওঠে বিউগল, শহীদদের উদ্দেশে সশস্ত্র সালাম জানায় সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল।
পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বজন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রধান বিচারপতি ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
পরাজয়ের আশঙ্কায় ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী ঢাকায় বসবাসরত দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও শিক্ষকদের নিজ নিজ বাসা থেকে অপহরণ করে। চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়ে তাঁদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়—নবজাত রাষ্ট্রের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বকে শূন্য করার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে।
নিহতদের মরদেহ ফেলে রাখা হয় মিরপুর ও রায়েরবাজার-এর বধ্যভূমিতে।
প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করে। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, বুদ্ধিজীবীরা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম রূপকার। জ্ঞানভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রাক্কালে এই হত্যাযজ্ঞের ক্ষত আজও জাতির বুকে গভীরভাবে দগদগে।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বার্তায় বলেন, বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেশকে মেধাশূন্য ও মনোবলহীন করতেই দখলদার বাহিনী ও তাদের দোসররা এই নৃশংসতা চালায়। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন ছিল একটি গণতান্ত্রিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ—সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায় আজও আমাদের কাঁধে।
১৯৭১-এর সেই অন্ধকার অধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা কেবল ভূখণ্ড নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিরও ফসল।