মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য নৌ-মাইন বসানোর বিষয়ে ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Truth Social-এ শেয়ার করা একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে কোনো মাইন বসিয়ে থাকে, তবে তা “অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।” যদিও একই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের ঘটনার নিশ্চিত কোনো রিপোর্ট নেই। তবুও তিনি সতর্ক করে বলেন, মাইন বসানো হয়ে থাকলে এবং তা দ্রুত অপসারণ না করা হলে ইরানের জন্য “এর আগে কখনও দেখা যায়নি এমন সামরিক পরিণতি” হতে পারে।
পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, যদি ইরান সম্ভাব্যভাবে বসানো মাইন সরিয়ে নেয়, তাহলে তা “সঠিক পথে একটি বড় পদক্ষেপ” হিসেবে বিবেচিত হবে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে এখানে কোনো সামরিক উত্তেজনা বা নৌ-মাইন স্থাপনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য সামরিক ঝুঁকির ইঙ্গিতই বৈশ্বিক তেলের দাম এবং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ব্যয়কে প্রভাবিত করতে পারে।
এখন পর্যন্ত ইরান এই মন্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে অতীতে তেহরান বারবার হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা উত্তেজনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকেই আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ট্রাম্পের পোস্টটি সরাসরি কোনো ঘটনার নিশ্চিত প্রমাণ দেয় না, তবে ভাষার তীব্রতা ইঙ্গিত করে যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ইস্যু আবারও একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন বক্তব্য আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং তেলবাজারে অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।