২০২৬ সালের আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে অনুমতি দেওয়া হলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে দলটি মাঠে নামবে না।
বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বলা হয়, “পাকিস্তান ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সরকার আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি–টোয়েন্টি ২০২৬–এ অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে অনুমোদন প্রদান করছে, তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে দলটি অংশ নেবে না।”
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ও সর্বাধিক দর্শকসংখ্যা আকর্ষণকারী ফিক্সচার হিসেবে পরিচিত। সেই বাণিজ্যিক বাস্তবতা মাথায় রেখেই ২০১২ সাল থেকে প্রতিটি আইসিসি ইভেন্টে দুই দলকে একই গ্রুপে রাখা হয়েছে। যদিও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে গত ১৪ বছর ধরে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। গ্রুপ পর্বে ম্যাচটি বাতিল হওয়ায়, ২০১০ সালের পর এই প্রথম কোনো পুরুষদের আইসিসি টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্যায়ে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নকআউট পর্বে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো ঘোষণা আসেনি।
২০২৬ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল ২৪ জানুয়ারি, যখন নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের বিকল্প ভেন্যুর দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানানো একমাত্র দেশ ছিল পাকিস্তান। এরপর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসির বিরুদ্ধে ভারতের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি তখন বলেছিলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে। বাংলাদেশের বাদ পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর নকভি জানান, বিষয়টি নিয়ে “সব বিকল্প খোলা রাখার” পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে “শুক্রবার অথবা পরবর্তী সোমবারের মধ্যে।” নির্ধারিত সময়সীমার এক দিন আগে সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল।
এর আগে জল্পনা ছিল, পাকিস্তান পুরো টুর্নামেন্ট বর্জন না করে কেবল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিতেই অংশ নেবে না। সেই ধারণা আরও জোরালো হয়, যখন পিসিবি আইসিসির নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করে এবং পরে মুছে ফেলা হলেও গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শ্রীলঙ্কায় সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতির কারণ জানতে পিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ইএসপিএনক্রিকইনফো।
গ্রুপ ‘এ’-তে পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে ভারত, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই তারা খেলবে শ্রীলঙ্কায়, যা ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের আয়োজক। ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে দলটি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করলে পাকিস্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই ম্যাচের দুই পয়েন্ট হারাবে।
আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, ম্যাচ পরিত্যাগের ফলে পাকিস্তানের নেট রান রেট ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তবে ভারতের নেট রান রেট অপরিবর্তিত থাকবে। ধারা ১৬.১০.৭–এ বলা হয়েছে, ফোরফিটের ক্ষেত্রে ডিফল্ট করা দলের পূর্ণ ২০ ওভারের ইনিংস তাদের প্রতিযোগিতার সংশ্লিষ্ট পর্বের গড় রান রেট গণনায় যুক্ত করা হবে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com








