ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা প্রযুক্তি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ঘিরে ট্রান্সআটলান্টিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন সাবেক ইউরোপীয় কমিশনার Thierry Breton, অনলাইন ঘৃণা ও ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় কাজ করা সংস্থা Center for Countering Digital Hate-এর প্রধান Imran Ahmed, পাশাপাশি জার্মান সংগঠন HateAid এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক Global Disinformation Index-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের Digital Services Act (DSA) বাস্তবায়নের মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক চাপ সৃষ্টি করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র “মুক্ত মতপ্রকাশের পরিপন্থী” বলে বিবেচনা করছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে ২০২৪ সালে ব্রেতঁর পাঠানো একটি চিঠিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি এলন মাস্কের মালিকানাধীন X-কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি লাইভ সাক্ষাৎকার ঘিরে সম্ভাব্য ক্ষতিকর কনটেন্ট বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
ইউরোপে এই পদক্ষেপকে কড়া ভাষায় নিন্দা জানানো হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron একে “ইউরোপীয় সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত” বলে আখ্যা দেন। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি Ursula von der Leyen বলেন, ডিজিটাল আইন প্রয়োগ EU-এর গণতান্ত্রিক অধিকার, এবং সেটি রক্ষায় তারা পিছপা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যকে আরও গভীর করেছে। ওয়াশিংটন যেখানে বাক্স্বাধীনতা ও বাজার-স্বাধীনতার ওপর জোর দিচ্ছে, ব্রাসেলস সেখানে বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর নজরদারিকে গণতান্ত্রিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে দেখছে।
এই দ্বন্দ্ব আগামী বছর ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com