বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর ৬০তম জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে নারী নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিয়ে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। এই অনুপ্রেরণাদায়ী মুহূর্তে YNews Global তাঁর প্রতি জানাচ্ছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও জন্মদিনের অনেক অনেক শুভকামনা।
তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তাটি নিচে দেওয়া হলো।
”ডিজিটাল বিশ্ব আজ আমাদের জীবনের প্রতিটি অংশকে প্রভাবিত করছে—দৈনন্দিন অভ্যাস থেকে শুরু করে বৈশ্বিক অঙ্গনে রাষ্ট্রের যোগাযোগ পর্যন্ত। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি যে বিশ্বকে বদলে দিয়েছে, বাংলাদেশকেও একইভাবে রূপান্তর করছে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই।
আমার স্ত্রী আর আমি ভাবি—আমাদের মেয়ের কাছে আজকের পৃথিবী কতটা ভিন্ন, আমরা যে পৃথিবীতে বড় হয়েছি তার তুলনায়। অনেক বাবা–মায়ের মতো আমরাও আশাবাদী, আবার উদ্বেগেও ভুগি। সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি, কিন্তু হুমকিগুলোও একইভাবে বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ যদি সামনে এগোতে চায়, তবে আমাদের কন্যা, মা, বোন এবং কর্মজীবী নারীরা ভয় নিয়ে বাঁচতে পারে না। প্রতিদিন অসংখ্য নারী অনলাইনে ও অফলাইনে—হয়রানি, হুমকি, নিপীড়ন, বৈষম্য এবং সহিংসতার মুখোমুখি হন—শুধু কথা বলার জন্য, কাজ করার জন্য, পড়াশোনা করার জন্য, কিংবা স্বাভাবিক জীবন যাপনের চেষ্টা করার জন্য।
এটাই সেই বাংলাদেশ নয়, যেটি আমরা স্বপ্ন দেখি। আর এটাও সেই ভবিষ্যৎ নয়, যা আমাদের কন্যারা পাওয়ার যোগ্য।
নারীদের নিরাপদ অনুভব করতে হবে—অনলাইনে ও বাস্তবে, ঘরে ও বাইরে, ব্যক্তিগত জীবনে এবং কর্মজীবনে।
এই বাস্তবতা নিশ্চিত করতে, তারেক রহমান—বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, তাঁর ৬০তম জন্মদিনে নারী নিরাপত্তা ও বিশ্বব্যাপী নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন:
সাইবারবুলিং, হুমকি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস—এসবের দ্রুত রিপোর্টিংয়ের ব্যবস্থা। ২৪/৭ হটলাইন, অনলাইন পোর্টাল ও প্রশিক্ষিত রেসপন্ডার থাকবে, যারা সম্মানজনকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে বাংলা কনটেন্ট মডারেশন উন্নত করা হবে।
সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, অ্যাক্টিভিস্ট বা সমাজনেত্রী—যে নারীরাই অনলাইন–অফলাইনে হামলার শিকার হন, তাঁদের জন্য গোপনীয় রিপোর্টিং, দ্রুত আইনি ও ডিজিটাল সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে। জনজীবনে অংশ নেয়ার জন্য কাউকে নীরব হতে হবে না।
স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশনের অংশ হিসেবে ডিজিটাল সেফটি প্রশিক্ষণ। শিক্ষকরা ‘সেফটি ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করবেন এবং বার্ষিক প্রচারাভিযান তরুণদের ডিজিটাল দুনিয়া বুঝে চলতে সহায়তা করবে।
সহায়তা ডেস্ক, নিরাপদ যাতায়াতপথ, উন্নত স্ট্রিট লাইটিং এবং ট্রমা-সেন্সিটিভ রেসপন্ডার—নারীদের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়াবে।
লিডারশিপ ট্রেনিং, মেন্টরশিপ নেটওয়ার্ক, এবং স্কুল–অফিস–কারখানায় শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা প্রসার—নারীদের নেতৃত্ব, সাফল্য ও পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে সহায়তা করবে। নারী এগোলে জাতিও এগোবে।
আমাদের রাজনীতি, ধর্ম, জাতিসত্তা বা পরিচয় যাই হোক—একটি সত্য আমাদের একত্রিত করা উচিত: নারী যখন নিরাপদ, সমর্থিত ও ক্ষমতায়িত—বাংলাদেশ তখন অপ্রতিরোধ্য।
আমাদের কন্যাদের জন্য, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য—এই বাস্তবতা তৈরি করতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”