• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মোদি-তারেক বৈঠক নিয়ে টানাপোড়েন: ২২-২৪ আগস্টের সময়সীমা, ‘অনুকূল পরিবেশ’ চায় ঢাকা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, ২০১৭-এর মিরপুরের পর নতুন ইতিহাস ডারউইনে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বাংলাদেশে শিল্পে স্থবিরতা, বাড়ছে বেকারত্ব বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা টাইফুন ডলফিনে জাপানে ৪৪ হাজার স্থাপনায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, চীনে আঘাতের শঙ্কা ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার প্রথম জনসমক্ষে উপস্থিতি, দুই বছর পর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন সার্জিও গর ঢাকা সফরে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন দিক নিয়ে আলোচনা শেখ হাসিনার দাবি: ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিহাসের সত্যের ভিত্তিতে হতে হবে’ জিদানের হাতে ফ্রান্স: ২০৩০ বিশ্বকাপ মিশনে নতুন অধ্যায়, ‘এটাই ছিল আমার একমাত্র চাওয়া’

আওয়ামী লীগের সংকট, নেতৃত্বের নীরবতা ও তুণমূল কর্মীদের ক্ষোভ

Reporter Name / ২২৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। জুলাইয়ের উত্তাল আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ—সব মিলিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয় গভীর অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা।

এই পরিবর্তনের পর সবচেয়ে বড় চাপে পড়ে আওয়ামী লীগ। দলটির শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করেই আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। গত দেড় বছরে গ্রেফতার, মামলা এবং কারাগারে মৃত্যুর অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাপী এখন একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—আওয়ামী লীগ কি আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করতে পারবে?

সম্পদ বনাম সংকট: নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আওয়ামী লীগের টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে দলের অনেক শীর্ষ নেতা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু বর্তমান সংকটময় সময়ে সেই সম্পদের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে।

দলের ভেতর থেকেই অভিযোগ উঠছে—
নেতারা শুধু ক্ষমতার সময় সক্রিয় থাকেন, কিন্তু দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে নেই।

শেখ সেলিম: প্রভাবশালী নেতা, কিন্তু নীরবতা কেন?

দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম, যিনি গোপালগঞ্জ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—বর্তমান সংকটে তার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে,

  • তার বিপুল সম্পদ থাকলেও কর্মীদের সহায়তায় কোনো উদ্যোগ নেই

  • কোনো যোগাযোগ বা দিকনির্দেশনাও দেননি

  • সংকটে থাকা কর্মীরা নিজেকে সম্পূর্ণ একা অনুভব করছেন

এতে দলের তৃণমূলে হতাশা আরও বাড়ছে।

শেখ হেলাল ও তার উত্তরাধিকার রাজনীতি

শেখ হেলাল এবং তার ছেলে—যিনি মূলত পারিবারিক প্রভাবেই সংসদ সদস্য হন—তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

বাগেরহাট অঞ্চলের বহু কর্মীর ভাষ্য:

  • তারা শুধু নিজেদের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন

  • দলের জন্য কার্যকর কোনো অবদান রাখেননি

  • বর্তমান সংকটে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত

ফলাফল হিসেবে, স্থানীয় পর্যায়ে তাদের বিরুদ্ধে নীরব বয়কট শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

তৃণমূলের ক্ষোভ: আস্থা হারাচ্ছে দল?

বর্তমান বাস্তবতা বলছে—
আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তৃণমূল কর্মীরা। কিন্তু আজ তারাই সবচেয়ে অবহেলিত।

এই পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্নগুলো হলো:

  • নেতৃত্ব কি কর্মীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারবে?

  • শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে দল কি টিকে থাকতে পারবে?

  • নাকি ভেতরের ক্ষোভই হয়ে উঠবে দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা?

সামনে কী?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ে:

  1. নেতৃত্বের পুনর্গঠন

  2. তৃণমূলের সাথে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার

  3. সংকটকালীন বাস্তব সহায়তা ও যোগাযোগ

এই প্রতিবেদনটির এটি প্রথম পর্ব। পরবর্তী অংশে উঠে আসবে আরও প্রভাবশালী নেতাদের ভূমিকা ও তাদের বিতর্কিত অবস্থান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd