বাংলাদেশ দ্রুত একটি ভয়ঙ্কর অস্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে—যেখানে সংখ্যালঘু নির্যাতন, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ এখন কার্যত স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে আইনশৃঙ্খলার পতন ঘটতে দিচ্ছে।
CNN-News18-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “আজকের বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও আহমদিয়া মুসলিমরা নিরাপত্তাহীন। মন্দির-গির্জা ভাঙা হচ্ছে, মানুষকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে মারা হচ্ছে, নারীদের জনজীবন থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—আর সরকার কার্যত দর্শকের ভূমিকায়।”
দিপু দাস হত্যাকাণ্ডকে তিনি আখ্যা দেন “রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নগ্ন উদাহরণ” হিসেবে।
তিনি বলেন, “এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি পরিকল্পিত উগ্রবাদী আগ্রাসনের অংশ, যাকে এই সরকার থামাতে চায় না—বরং রাজনৈতিক সুবিধার জন্য সহ্য করছে।”
শরীফ উসমান হাদী হত্যার পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, সেটিকে শেখ হাসিনা সরাসরি প্রশাসনিক ব্যর্থতা বলে আখ্যা দেন।
তার ভাষায়, “একটি দায়িত্বশীল সরকার হলে সঙ্গে সঙ্গে সেন্সিটিভ এলাকা সিল করত, নিরপেক্ষ তদন্ত হতো, দোষীদের ধরা হতো। এখানে হয়েছে উল্টো—সহিংসতা চলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে, সত্য চাপা দেওয়া হয়েছে।”
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ইউনূস সরকার পরিকল্পিতভাবে ভারতবিরোধী আবহ তৈরি করছে, যাতে দেশের ভেতরের ব্যর্থতা আড়াল করা যায়।
“বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা সবসময় ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেছে। সেই সম্পর্ক ভাঙা মানে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলা,” বলেন তিনি।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে সহিংস বিক্ষোভ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “এটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ ছিল না। এটা ছিল উগ্রবাদীদের পরিকল্পিত শক্তি প্রদর্শন—আর সরকার তাদের আড়াল করছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই ২০২৪-এর সহিংসতায় জড়িত অনেককেই এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভেতরে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন মানে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া। এটা নির্বাচন নয়, এটা ক্ষমতা বাছাই।”
তিনি বলেন, “এই সরকার জানে—আমরা অংশ নিলে তারা ভয়াবহভাবে পরাজিত হবে। তাই আমাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে।”
শেখ হাসিনার ভাষায়, “বাংলাদেশ এখন একটি বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে। যদি এখনই গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা না হয়, তাহলে দেশকে এমন অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হবে যেখান থেকে ফেরা কঠিন হবে।”
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com/ynewsglobal@gmail.com