ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি দেশজুড়ে চলমান ভয়াবহ বিক্ষোভের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে “অপরাধী” বলে মন্তব্য করেছেন। শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে জড়িত হয়েছেন—এমনটাই জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান সরকার ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে যে দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তি—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের—উস্কানি রয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, অর্থনৈতিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভকে বাইরের শক্তিগুলো সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দিতে ভূমিকা রেখেছে।
গত বছরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের মুখে পড়ে আন্দোলনকারীরা। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এই দমন অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান শুক্রবার জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,০৯০ জনে। অন্যদিকে, ইরানের নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ১২,০০০।
এই সহিংসতা ও প্রাণহানির মাত্রা অনেক পর্যবেক্ষকের মতে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময়কার অস্থিরতার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তেহরানে “শাসন পরিবর্তন” প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এমনকি সামরিক পদক্ষেপের কথাও প্রকাশ্যে তুলেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে খামেনির নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে তীব্র বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।








