উইনসর ক্যাসেলে রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় ব্রিটেনের রাজা জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সঙ্গে কথোপকথনে ঐতিহাসিক ফুটবল আধিপত্য নিয়ে হালকা রসিকতা করেন। সেন্ট জর্জ’স হলে আয়োজিত এ ভোজসভার বক্তৃতায় রাজা বলেন, “ফুটবল আমাদের একটি অভিন্ন আগ্রহের ক্ষেত্র। তবে ‘শেয়ার্ড’ শব্দটি বেশ বিস্তৃত অর্থে ব্যবহার করছি—কারণ সেই বিখ্যাত কথাটি তো কিছুটা সত্যই: ফুটবল হলো এমন একটি খেলা, যেখানে এগারো বনাম এগারো খেলেন, আর শেষে জার্মানরাই জেতে।”
জার্মান ভাষার কিছু অংশে দেওয়া বক্তৃতায় রাজা আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বে যুক্তরাজ্য ও জার্মানিকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে। “ইতিহাসে আমরা ভয়াবহ সংঘাত দেখেছি। কিন্তু সেই বেদনাদায়ক অতীতই আজ সৎ ও টেকসই বন্ধুত্বের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে,” যোগ করেন তিনি।
প্রায় ১৬৪ ফুট লম্বা মহগনি টেবিলে সাজানো ভোজসভায় ১৬০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। পেছনে ছিল বিশাল এক ক্রিসমাস ট্রি।
স্টাইনমায়ার পাল্টা বক্তৃতায় দুই দেশের ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’ উল্লেখ করেন এবং জার্মান রসবোধ নিয়ে নিজেই রসিকতা করেন। তিনি বলেন, “আমরাও তর্ক করি—কে বেশি মার্জিত ফুটবল খেলে? কার বিয়ার ভালো? কার লন নিখুঁত? আর যদি জিজ্ঞেস করেন, কোন দেশের রসবোধ ভালো—কেউ হয়তো বলবেই: জার্মান রসবোধ আবার কোথায়?”
জার্মান প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টানা ৮০ বছরের শান্তিকে “দুই দেশের জন্য আশীর্বাদ” বলে উল্লেখ করেন। “শত্রু থেকে মিত্র হওয়াই আমাদের যৌথ ইতিহাসের শক্তি,” বলেন তিনি।
এর আগে হিথ্রোতে প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস। পরে উইনসরে পৌঁছে রাজা ও রাণীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক স্বাগত পর্ব সম্পন্ন হয়। আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার পরিদর্শনের আগে রাজকীয় ঘোড়ার গাড়িতে করে সবাই উইনসর ক্যাসেলে যান।
রাজকীয় সংগ্রহে থাকা জার্মানি-সম্পর্কিত ঐতিহাসিক প্রদর্শনীও ঘুরে দেখেন অতিথিরা। পরে স্টাইনমায়ার ডাউনিং স্ট্রিটে স্যার কিয়র স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করেন, আর জার্মান ফার্স্ট লেডি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
বৃহস্পতিবার জার্মান প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী গোপনে রানী এলিজাবেথ দ্বিতীয়ের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন। শুক্রবার তারা কেন্টের ডিউকের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমায় বিধ্বস্ত পুরনো কোভেন্ট্রি ক্যাথেড্রালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com