যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুতে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির স্মরণে ইরান ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন করেছে। পাঁচটি শহর ও দুই দেশে বিস্তৃত সপ্তাহব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানের মাধ্যমে তেহরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধের বার্তা তুলে ধরতে চাইছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, লাখো থেকে কয়েক মিলিয়ন শোকাহত মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। রাজধানী তেহরানে বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ এবং বিপুল খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে খামেনিকে ‘শহীদ’ ও ইসলামী বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যয়বহুল যুদ্ধ ও দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটের পরও এই আয়োজনের লক্ষ্য হলো দেখানো যে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো অটুট রয়েছে এবং নেতৃত্বের উত্তরাধিকার অব্যাহত থাকবে।
শেষযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা তেহরান, কোম, ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে খামেনির জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভসহ কয়েকজন বিদেশি নেতা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।