গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে ইউরোপের শীর্ষ নেতারা একযোগে কড়া অবস্থান জানালেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের এবং এর ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডেরই।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপ ও ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তার জন্য আর্কটিক অঞ্চল এখন “কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”। ন্যাটো ইতোমধ্যেই অঞ্চলটিকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে এবং ইউরোপীয় মিত্ররা সেখানে উপস্থিতি, তৎপরতা ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে যাতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করা যায়। ডেনমার্কের রাজ্য গ্রিনল্যান্ডসহ ন্যাটোর অংশ বলেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
নেতারা বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা অবশ্যই ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রসহ, এবং জাতিসংঘ সনদের নীতি সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সীমান্তের অখণ্ডতা—অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। “এই নীতিগুলো সার্বজনীন, এবং আমরা এগুলোর পক্ষে অটল থাকব,” বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রকে “অপরিহার্য অংশীদার” হিসেবে আখ্যা দিয়ে নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৫১ সালের ডেনমার্ক–যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতেই আর্কটিক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ গড়ে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার স্থানীয় জনগণের এবং ডেনমার্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্কটিকে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই যৌথ বিবৃতি ইউরোপের সমন্বিত অবস্থানকে স্পষ্ট করল। বরফ গলার ফলে নতুন নৌপথ ও সম্পদের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় অঞ্চলটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর নজরে এসেছে। ইউরোপীয় নেতাদের এই বার্তা সেই প্রেক্ষাপটে সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করল।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com,ynewsglobal@gmail.com