লা পাজ, বলিভিয়া — নগদ অর্থ বহনকারী একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর বলিভিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সহিংস দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে।
বিমানটি ছিল একটি লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস, যা পরিচালনা করছিল বলিভিয়ান বিমান বাহিনী (ফুয়ের্সা আয়েরিয়া বলিভিয়ানা)। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি আর্থিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এক শহর থেকে অন্য শহরে ব্যাংকনোট পরিবহন করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও তদন্তাধীন।
চোখে দেখা সাক্ষীরা জানান, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যায়। গুজব রটে যে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ছড়িয়ে আছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মানুষ সব টাকা নিয়ে যেতে চেয়েছিল,” এবং খুব দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
নিরাপত্তা বাহিনী ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে কমপক্ষে ২০ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে দগ্ধ, আঘাতপ্রাপ্ত এবং টিয়ার গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সরকার এখনও বিমানে থাকা মোট অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করেনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ এবং পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাগুলো তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও আর্থিক চাপে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শারীরিক নগদ অর্থ পরিবহনের বিষয়টি জনমনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় অস্থায়ী নিরাপত্তা বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
তদন্তকারীরা ফ্লাইট ডাটা ও রক্ষণাবেক্ষণ নথি পর্যালোচনা করছেন। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হতে পারে।