বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করে ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন রূপরেখা, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যুব কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল অবকাঠামোকে জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন হবে গ্রাম থেকে শহরভিত্তিক, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এবং পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩.৫ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।
মূল প্রস্তাবসমূহ:
অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক ভোকেশনাল শিক্ষা
নির্বাচিত খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতি কার্যক্রম বাধ্যতামূলক
ওপেন ইংলিশ লার্নিং প্রোগ্রাম
কর্মসংস্থানের অঞ্চলভিত্তিক ভাষা প্রশিক্ষণ
লক্ষ্য—পরীক্ষাভিত্তিক নয়, বরং কর্মসংস্থানযোগ্য শিক্ষার্থী তৈরি।
স্বাস্থ্য খাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে বাড়ি বাড়ি সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে।
এছাড়া:
বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সরকারি চুক্তি
ডায়ালাইসিসসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসায় নির্ধারিত খরচ
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় সরকারি কল্যাণ তহবিল থেকে বহন
দ্রুত ও সহজ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ
গ্রামভিত্তিক ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গৃহিণীরা সরাসরি সুবিধাভোগী হবেন। পাইলট প্রকল্প সফল হলে পাঁচ বছরে এটি জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে।
কৃষক ক্রেডিট সংস্কার কর্মসূচির আওতায় কৃষকরা সর্বোচ্চ ১.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সরাসরি সহায়তা পেতে পারেন।
প্রধান উদ্যোগ:
ফসল নির্বাচন, বীজ ও সার সংক্রান্ত ডিজিটাল গাইডলাইন
মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বৃষ্টি ও আবহাওয়া পূর্বাভাস
সহজ ও স্বচ্ছ কৃষিঋণ ব্যবস্থা
খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত:
জনসমাগমপূর্ণ স্থানে বিনামূল্যে Wi-Fi
বিজ্ঞাপনভিত্তিক বিজনেস লাউঞ্জ ইন্টারনেট সুবিধা
নার্সিং ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যের আসন
পরিকল্পনায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে শিক্ষা ও অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী—
স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিল্প, সংগীত, নাটক ও লোকসংস্কৃতি চর্চা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে
স্থানীয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্য তহবিল ও প্রশিক্ষণ সহায়তা বাড়ানো হবে
গ্রামভিত্তিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করে লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাংলা সংস্কৃতির কনটেন্ট মনিটাইজেশন সহজীকরণ
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি জোরদার
এই উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য—সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশ, সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ এবং সংস্কৃতি-ভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
যুবদের জন্য বিশেষ ওয়ার্কস্পেস তৈরি করা হবে। পাশাপাশি একটি নতুন কনটেন্ট মনিটাইজেশন নীতি প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের স্বচ্ছতা ও ন্যায্য আয় নিশ্চিত হয়।
বিএনপির এই রূপরেখা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, এরপর ধাপে ধাপে জাতীয় বাস্তবায়ন। লক্ষ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
For advertisement, write to : connect@ynewsglobal.com