• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মোদি-তারেক বৈঠক নিয়ে টানাপোড়েন: ২২-২৪ আগস্টের সময়সীমা, ‘অনুকূল পরিবেশ’ চায় ঢাকা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, ২০১৭-এর মিরপুরের পর নতুন ইতিহাস ডারউইনে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বাংলাদেশে শিল্পে স্থবিরতা, বাড়ছে বেকারত্ব বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা টাইফুন ডলফিনে জাপানে ৪৪ হাজার স্থাপনায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, চীনে আঘাতের শঙ্কা ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার প্রথম জনসমক্ষে উপস্থিতি, দুই বছর পর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন সার্জিও গর ঢাকা সফরে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন দিক নিয়ে আলোচনা শেখ হাসিনার দাবি: ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিহাসের সত্যের ভিত্তিতে হতে হবে’ জিদানের হাতে ফ্রান্স: ২০৩০ বিশ্বকাপ মিশনে নতুন অধ্যায়, ‘এটাই ছিল আমার একমাত্র চাওয়া’

বিজয় দিবস ২০২৫: রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৫৪ বছর

Reporter Name / ৬০০ Time View
Update : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

আজ মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান এএকে নিয়াজি; মিত্রবাহিনীর পক্ষে তা গ্রহণ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৪ বছরের শোষণ-নিপীড়নের অবসান ঘটে এবং জন্ম নেয় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালিত হচ্ছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিনভর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ দোয়া, আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা স্মরণীয় আয়োজন চলছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এর মধ্যে বিএনপিসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো পৃথক বিবৃতিতে মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাও দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক নতুন সূর্যোদয়ের দিন। ১৯৫২, ১৯৬২, ১৯৬৯ ও ১৯৭০-এর গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চূড়ান্ত রূপ নেয় মুক্তিযুদ্ধে। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতার সংগ্রামে।

যুদ্ধ যত এগিয়েছে, ততই দৃঢ় হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের পক্ষে সমর্থন জোরালো হয়, আর প্রতিবেশী ভারত চূড়ান্ত পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অবশেষে নয় মাসের বিভীষিকার অবসান ঘটে। তিন মিলিয়ন শহীদের রক্ত এবং দুই লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় বিজয়। এই দিনে বাংলাদেশ নিজ ভাগ্য নিজ হাতে গড়ার অধিকার নিশ্চিত করে—যার মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd