মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, যখন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান শনিবার ঘোষণা করেন যে দেশটির অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে—যদি না ওই দেশগুলোর দিক থেকে ইরানের ওপর সরাসরি হামলা আসে।
এই ঘোষণাটি এমন সময়ে আসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান অঞ্চলজুড়ে সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে নতুন হামলার খবর সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ফলে রানওয়ের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে যাত্রী ও কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ব্যস্ত বিমান চলাচল কেন্দ্র হওয়ায় এ ঘটনার প্রভাব বৈশ্বিক ভ্রমণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো দায় স্বীকার করা হয়নি। ফলে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ‘আক্রমণ স্থগিত’ ঘোষণার সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার খবরের অসঙ্গতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে গভীরভাবে নজর রাখছেন, কারণ অঞ্চলটির অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহ, বিমান চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
কূটনৈতিক মহল বলছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।