বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট ২০২৮ সালে পুরোপুরি চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রায় ২,৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্য বেসলোড বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে এবং ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়েছে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলেরও অংশ এটি।
তবে উচ্চ নির্মাণ ব্যয়, ঋণ পরিশোধের চাপ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। এরপরও উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে পারমাণবিক শক্তি কতটা কার্যকর ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হতে পারে, সে বিষয়ে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রূপপুর প্রকল্প সফলভাবে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হলে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। শিল্পায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারমাণবিক জ্বালানি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই নির্ভর করবে এই প্রকল্পের সাফল্যের ওপর।