সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিদেশি আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক শুল্কহার ১৫ শতাংশে উন্নীত করবেন। একটি সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের শুল্কসংক্রান্ত রায়কে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে জানান, বিদ্যমান ১০ শতাংশ “বিশ্বব্যাপী শুল্ক” বৃদ্ধি করে তিনি তা অবিলম্বে ১৫ শতাংশে উন্নীত করবেন, যা তিনি “আইনগতভাবে পরীক্ষিত” সর্বোচ্চ হার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অন্যায্য বাণিজ্য আচরণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেন।
সুপ্রিম কোর্টের শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প ভুল ও দুর্বল বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, বিচারপতিরা কয়েক মাস ধরে বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। তবে কোন মামলার রায় এবং সেটি কীভাবে সরাসরি শুল্ক বৃদ্ধির পথ তৈরি করেছে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক মাসে তার প্রশাসন নতুন এবং “আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য” অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণ ও ঘোষণা করবে, যা থেকে ভবিষ্যতে আরও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ আসতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
উচ্চ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বৈদেশিক অংশীদারদের ওপর আলোচনামূলক চাপ তৈরির পক্ষে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তবে অর্থনীতিবিদরা সাধারণত সতর্ক করে বলেন, বিস্তৃত শুল্ক বৃদ্ধি ব্যবসা ও ভোক্তাদের খরচ বাড়াতে পারে এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের পাল্টা পদক্ষেপের ঝুঁকি তৈরি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কনীতি সংক্রান্ত সংকেত আর্থিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে, কারণ এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। একটি সার্বজনীন শুল্কহার বৃদ্ধি উৎপাদন, খুচরা বিক্রি ও পণ্যবাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প এই নীতিকে তার “আমেরিকা ফার্স্ট” অর্থনৈতিক কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরে দাবি করেন, শক্তিশালী বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।
তবে প্রস্তাবিত শুল্ক বৃদ্ধি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে কি না বা কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই বিবৃতির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিগত নথি প্রকাশ করা হয়নি।