স্পেসএক্সের শেয়ারদরের উল্লম্ফনে ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি আমাজনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। নাসডাকে ইতিহাসের বৃহত্তম আইপিওর কয়েকদিনের মধ্যেই কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বর্তমানে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য প্রায় ২.৭৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে জেফ বেজোসের ই-কমার্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং জায়ান্ট আমাজনের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
বাজারমূল্যের এই উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে স্পেসএক্সের ৬০ বিলিয়ন ডলারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোডিং স্টার্টআপ কার্সর অধিগ্রহণের ঘোষণা। কার্সরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ারকে (Anysphere) অধিগ্রহণের মাধ্যমে স্পেসএক্স দ্রুত বর্ধনশীল এআই সফটওয়্যার খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে।
নাসডাকে তালিকাভুক্তির সময় স্পেসএক্স ৮৫.৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে এবং ইলন মাস্ককে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। শুক্রবার প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর তা বেড়ে ২০৯ ডলারে পৌঁছেছে।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশ স্পেসএক্সের বর্তমান মূল্যায়ন নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ আয় ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ঘিরে এখনও উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারের এই মূল্য ধরে রাখাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
আর্থিক পারফরম্যান্সের বিচারে আমাজন এখনও অনেক এগিয়ে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে আমাজন ৩০.৩ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা করেছে, যেখানে একই সময়ে স্পেসএক্সের লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪.৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে আমাজনের মোট বিক্রি ছিল ৭১৬.৯ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে স্পেসএক্সের রাজস্ব ছিল ১৮.৬৭ বিলিয়ন ডলার।
তবুও বিনিয়োগকারীরা স্পেসএক্সের বর্তমান আর্থিক ফলাফলের চেয়ে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি, স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক, মহাকাশভিত্তিক এআই ডেটা সেন্টার এবং মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিশেষজ্ঞ আইলিন বারবিজের মতে, অনেক বিনিয়োগকারী মূলত ইলন মাস্কের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্র্যান্ড ভ্যালুর ওপর বাজি ধরছেন, কোম্পানির মৌলিক আর্থিক ভিত্তির ওপর নয়।
বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, বাজারে স্পেসএক্সের মাত্র ৪ শতাংশ শেয়ার মুক্তভাবে লেনদেনযোগ্য। সীমিত সরবরাহের কারণে উচ্চ চাহিদা শেয়ারদরে অতিরিক্ত ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করছে, যা কোম্পানির মূল্যায়নকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।