যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্ট জীবিত আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমার জানা মতে” উভয়েই নিরাপদে আছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণের প্রতি “নিজেদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার” আহ্বান জানানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।
এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর ভূখণ্ডে অবস্থিত ঘাঁটিও রয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রাখবে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে সংস্থার একজন মুখপাত্র বলেন, দেশের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিতেই হামলার প্রভাব পড়েছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ২২০টি দল বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টিভি পৃথকভাবে জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে।
এই সংঘাত সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরান ও তার প্রতিপক্ষদের মধ্যে সবচেয়ে সরাসরি ও তীব্র মুখোমুখি অবস্থান হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো, সমুদ্রপথ এবং মার্কিন স্বার্থে এর প্রভাব নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।